হরমুজ প্রণালিকে ইরানের ‘সবচেয়ে বড় হাতিয়ার’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেছেন, এ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে এবং কোনও পরিস্থিতিতেই এ অবস্থান থেকে সরে আসবে না তেহরান।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন গালিবাফ। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরান তার সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। এছাড়া সমঝোতা স্মারকে শুধু ৬০ দিনের জন্য ওই সমুদ্রপথে সামুদ্রিক সেবার ফি থেকে সাময়িক ছাড় দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রেস টিভির ওয়েবসাইটের বরাতে গালিবাফ বলেন, ‘এগুলো আমাদের আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা। ইরান হরমুজ প্রণালিকে সামরিকীকরণ করেছে— এমন দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনও বিতর্ক বা বিভ্রান্তি তৈরির সুযোগ আমরা দেব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনও পরিস্থিতিতেই ইরান এ অবস্থান থেকে সরে আসবে না।’
গালিবাফ হরমুজ প্রণালিকে ‘যুদ্ধের সময় আল্লাহর দেয়া উপহার’ এবং ‘ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তিশালী হাতিয়ার’ বলেও উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দেয়া বিস্তৃত এই সাক্ষাৎকারে গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্তের পক্ষেও কথা বলেন।
তিনি বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেয়া প্রমাণ করে যে, সামরিক সক্ষমতার সমর্থন থাকলে কূটনীতির মাধ্যমেও বাস্তব ফল অর্জন করা সম্ভব। তার দাবি, নৌ অবরোধ তুলে নেয়ার পর দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে ইরান ৪ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি করেছে।
তবে তিনি বলেন, ইরানের একমাত্র প্রকৃত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা তার সামরিক শক্তি। তাই ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও সামরিক সক্ষমতা ‘কোনও অবস্থাতেই আলোচনার বিষয় হবে না’।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান তার পরমাণু অধিকার থেকেও সরে আসবে না। তার ভাষায়, ‘ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ আমাদের বৈধ এবং অখণ্ডনীয় অধিকার।’
গালিবাফ আরও বলেন, চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য সমঝোতা স্মারকে নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা প্রয়োজনে বাড়ানো যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আরোপিত সব প্রাথমিক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞা তুলে না নেয়া পর্যন্ত আলোচনা চলবে।
সাক্ষাৎকারে গালিবাফ আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক সেবা পরিচালনা সংক্রান্ত সব আইনি ও সেবা বিষয়ে ইরান ও ওমান ইতোমধ্যে একমত হয়েছে। তিনি জানান, সমঝোতা স্মারকের পাঁচটি ধারা বাস্তবায়নের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এগোবে না। এসব ধারার মধ্যে লেবাননে যুদ্ধবিরতি, ইরানের তেল রপ্তানি নিশ্চিত করা এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করার মতো বিষয়ও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও লেবানন একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনে সম্মত হয়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে নিজেদের প্রতিনিধি নিয়োগ করেছে। সেলটি কার্যকর হওয়ার আগে বৈরুতও প্রতিনিধি নিয়োগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গালিবাফের দাবি, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারকের উদ্দেশ্য লেবাননের স্বাধীনতা রক্ষা করা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন-ইসরায়েলের পৃথক কাঠামোগত চুক্তির লক্ষ্য ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
খুলনা গেজেট/এএজে

